অসাধারন একটা মুভি গ্রুপ। প্রায় সব ইউজাররা একটিভ। নিয়মিত তারা বিভিন্ন মুভি শেয়ার করে হেল্প করছে পাশাপাশি হেল্প নিচ্ছে। চলছে আলোচনা। চলছে তর্ক। সবাই গ্রুপের নিয়ম মেনে গ্রুপ্টাকে নিজের মতো ভালোবেসেছে। যা আমাদের যারা মুভি দেখি তাদের জন্য কতো প্রয়জনিয় তা বলার বাইরে। আপনি চাইলেই এই গ্রুপের সদস্য হতে পারেন। আপনিও আপনার পছন্দের মুভিটি শেয়ার করতে পারেন। জেনে নিতে পারেন অন্যদের ভালোলাগার মুভি। আলোচনা করতে পারেন।চ শুধু এক্টিভ থাকার চেস্টা করবেন।গ্রুপের নিয়মকানুন মেনে চলুন। মুভি লাভার এখানে কিল্ক করে আমাদের প্রিয় গ্রুপের সদস্য হয়ে যান
প্রিয় সংগ্রহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রিয় সংগ্রহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

Satyajit Ray Movie Collection


Satyajit Ray was born in Calcutta on 2nd May 1921. His father, Sukumar Ray was an eminent poet and writer in the history of Bengali literature. In 1940, after receiving his degree in science and economics from Calcutta University he attended Tagore's Viswa-Bharati University. His first movie Pather Panchali (1955) won several International Awards and set Ray as a world-class director. He died on April 23, 1992.



Abbas Kiarostami Best 15 Movies Download link

আব্বাস কিয়ারোস্তামি এমন একটি নাম, যিনি নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার প্রশ্নে বরাবরই আপসহীন। তার চলচ্চিত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করে দর্শক। তিনি চান, ছবি দেখে দর্শক চিন্তা করবে, তার চলচ্চিত্রের ভেতরে প্রবেশ করবে। শেষমেশ নিজেরাই ব্যাখ্যা দাঁড় করাবে। তাই আব্বাসের চলচ্চিত্রগুলো রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের মতো 'শেষ হইয়াও হইল না শেষ' ধরনের। আব্বাসের চলচ্চিত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি অপেশাদার অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন.

তোমার আমার মেঘঘরে কুসুমের ঢেউ।

মেয়ে
ও-মেঘ কোথা যাও---
শুনে যাও!
নিয়ে যাও আমার মৌন অঞ্চল,বিরহের রাত বুঝি হয় নারে ভোর।
নিয়ে যাও তার কিছু
যাও তার পিছুপিছু,
দুরে থেকে বহুদুরে
ঝরে পড় তার মনে,
ফোটায় ফোটায় ভেজাও মনের বসন।

। ছেলে

কোরুবো (যারা জন্মদিনের পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায়)

লিখেছেনঃ সোহাগ হোসেন

বৃষ্টি ধোয়া বনভুমি বা রেইন ফরেস্ট পৃথিবীর একটি বিস্ময়কর স্হান। সেখানে যেমন অসংখ্য পোকা মাকোরের প্রজাতী পাওয়া যায় তেমনি বনভুমির বেশ গভীরে রয়েছে আদিবাসি দের বসবাস, সম্প্রতি এ ধরনে আদিবাসি দের দেখামিলেছে পশ্চিম ব্রাজিলে জাভারি উপত্যাকার প্রতন্ত অন্চলে। সেমিনোম্যাডক গোষ্ঠির এই আদিবাসি দের কোরুবো নামে অবিহিত করাহয়, শিকারি ও প্রকৃতির কোলে লালিত এই কোবেরুদের সংরক্ষনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ব্রাজিল সরকারের ন্যশনাল ইন্ডিয়ান ফউন্ডেশন।

আইয়ারস-রক(যে পাহার রং পাল্টায়)

লিখেছেনঃ সোহাগ হোসেন

আইয়ারস-রক অস্ট্রেলিয়ার ছোট একটি পাহাড়। তাবে এর আকৃতি বিবেচনা করে একে পাহাড় না বলে টিলা বলা যেতে পারে। এই টিলার চরিত্র বাস্তবিক ভাবেই বিচিত্র। টিলাটি প্রতি রৃতুতে তার রং পরিবর্তন করে। এমোনকি মাঝে মাঝে প্রতিদিনই রং পরিবর্তন করে। ১৮৭৩ সালে ডাব্লিউ জি গোসে এটি প্রথম দেখতে পান। অস্ট্রেলিয়ার তখনকার প্রধান মন্ত্রীর নামে তখন তিনি এটির এটির নাম করেন হেনরী আয়ারম্ব। টিলাটি আগাগোড়া বেলে পাথরের তৈরি। সুর্য উদয়ের সময় এটি লাল রং ধারন করে।

জোনাকি পোকার কথা

লিখেছেনঃ জারনো
প্রথম প্রকাশঃ এখানে
জোনাকি পোকার কথা আমাদের জানা আছে। জোনাকির উজ্জ্বল আলো রাতে বেশ ভালোই লাগে। জোনাকির আলোর কথা জানা থাকলেও এ ধরনের আরও কিছু আলোর পোকার কথা আমরা অনেকেই জানি না। সমুদ্রে এক ধরনের পোকা আছে যারা দল- বেঁধে জলের ওপর ভেসে ওঠে আলোর চক্র বানায়। আর তার সাহায্যে তাদের খাদ্য সংগ্রহ করে। এ এক বিচিত্র ব্যাপার। আলোগুলোও বেশ জোরালো হয়ে থাকে। বারমুডা এলাকায় এই জাতের পোকা দেখতে পাওয়া যায়।

মা

 লিখেছেনঃ কাকভেজা
১ম প্রকাশঃ সামু

 যদিও লেখার অভ্যাসটা নেই বললেই চলে, কিন্তু আজ মাঝরাতে নিরব একটি কক্ষে বসে বড় বেশি মাকে মনে পড়ছে, তাই মনে করলাম দু-চারটে কথা লিখি মা’কে নিয়ে, যদি মনটা একটু হালকা হয়।
আমি বাড়ীর বড় ছেলে... বংশের বড় ছেলে। গ্রামে জন্ম হলেও ছোট বেলা থেকে গ্রাম হতে দূরে থেকেছি। তাই যখন বাড়ীতে যেতাম তখন মা যে কি যতনে আমাকে আগলে রাখতো আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

দেশের দক্ষিনাঞ্চলীয় জেলা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার  দক্ষিন-পশ্চিমে  অবস্থিত   নৈসর্গিক শোভামন্ডিত  দ্বীপাঞ্চল নিঝুম দ্বীপ। রহস্যময়ী এই নিঝুম দ্বীপ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়,বহির্বিশ্বের মানুষের ব্যাপক কৌতুহল ও আগ্রহ রয়েছে।অন্যতম কারন মনোরমপরিবেশ এবং এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত প্রত্যক্ষ করার বিরল  সুযোগ ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লিলা ভুমি 'বাংলাদেশ'।

সামুতে ঘুরতে ঘুরতে এটা পেয়ে যাই। আমার এই ছোট ব্লগটিতে কিছু বিদেশি ইউজার আসেন যারা বাংলাদেশ সমন্ধে কম জানেন।দুরে থাকেন তাই বাংলা ভাষার প্রতি টান থেকে তারা এখানে আসে। তাদের জন্য এই পোস্ট। এটা একটা ফটো ব্লগ।

 লিখেছেন ঃ      sraboni
প্রথম প্র্কাশ ;     সামু ব্লগ
বিবর্ণ সময়ের হাত ধরে আসে অন্ধকার নাকি আলোর সাথে হেঁটে হেঁটে আসে অন্ধকার? মাথায় ঢুকছে না ব্যাপারটা। আজ বিকেল থেকে এই প্রশ্নটা মাথায় পোকার মত কুটকুট করে কামড়াচ্ছে। বাড়ী ফিরতে ইচ্ছে করছে না। বাড়ী মানে তো সেই অশান্তির কুঞ্জ। ভাল লাগে না আর। সারাদিন হা করা অভাব আর টাকার চিন্তায় পাগল মানুষগুলোর উত্তপ্ত বাক্যালাপে ক্লান্ত লাগে খুব।
তার চেয়ে এই ভাল পার্কে বসে উদাস বাতাসের সাথে বিলীন হওয়া। কি যে এক অদ্ভুদ শূণ্যতা বুকের ভেতর!
আজ প্রায় তিন বছর হতে চলল পাশ করেছি। একটা ভাল চাকরীর জন্য কোথায় না কোথায় ঘুরছি! কিন্তু ভাগ্য বিধাতার বুঝি প্রষন্ন হতে মন চাইছে না। মায়ের খুব অসুখ। বাবার বয়স হয়েছে। ছোট ছোট দুটি ভাই বোন আছে। সবাই চেয়ে আছে আমার দিকে। একটা সুপার ষ্টোরে পার্ট টাইম কাজ করি। হিসাব পত্র দেখি। সারাদিন কেটে যায় চাকরী খুঁজে আর টিউশনী করে। এই করে যে ক'টা টাকা পাই মায়ের হাতে তুলে দেই। প্রতিদিন বাড়ী ফেরার পর সব গুলো মানুষের অপেক্ষমান জ্বলজ্বলে চোখের দিকে তাকাতে পারি না। মাথা নিচু করে চলে যাই নিজের রুমে। মা আস্তে আস্তে এসে কাছে দাঁড়াবে নিচু স্বরে জানতে চাইবে ' কিছু উপায় হলো রে শিমু?'
রোজকার মতই আমি বলব ' না মা হয়নি।' মায়ের নিভে যাওয়া মুখের দিকে চাইতে পারি না। বন্ধ বাথরুমের দেয়ালে আছড়ে পড়ে শুধু কান্নার ঢেউ।
চাইলেও এসব থেকে পালাতে পারি না আমি। কখন যেন দু'ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে নিজের অজান্তেই। আজ নিভার সাথে দেখা হয়েছিল। আমি যে ষ্টোরে কাজ করি ওখানে। কিছু কেনাকাটা করে কাউন্টারে এসেছিল। দু'চোখ উপচে পড়া বিস্ময় নিয়ে জানতে চাইল ' কিরে তুই এখানে? চাকরী করিস নাকি?!'
উজ্জ্বল হাসি দিয়ে বলি 'হ্যাঁ। কেমন আছিস?'
'এই তো ভাল। তোর এ কি অবস্থা?! এমন হয়ে গেছিস কেন দেখতে?'
'কি অবস্থা? কই ঠিকই তো আছি।'
' না রে আগের চেয়ে অনেক মোটা হয়েছিস।'
'তাই।'
দ্রুত বিল করে দিই। টাকা গুনে চেঞ্জ ফেরত দিয়ে হাসি মুখে তাকাই। হাসিতে বুঝিয়ে দিই ব্যস্ততা। নিভা হাত নেড়ে চলে যায়।
তারপর থেকে আর কাজ উঠছে না হাতে। কিছুতেই মনো্যোগ দিতে পারছি না। হিসাব ভুল হলো দু'বার। কাষ্টোমারের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। ম্যানেজার এসে দাঁড়ালো পাশে। ' কি হয়েছে শিমু? শরীর খারাপ লাগছে নাকি?'
' না কাশেম ভাই। ঠিক আছি।'
' চা খাবে?'
' খাওয়া যায়।'
'এই লাভলু চা আন তো দু'কাপ।'
ম্যানেজারের এত সহানুভুতির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকি। কাশেম ভাই প্রায় সময় কাজ ফেলে চেয়ে থাকেন আমার দিকে। অন্তরঙ্গ হতে চায়।
এই কি চেয়েছিলাম আমি?! নিজের জীবনটার প্রতি ঘৃনা চলে এসেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে আর বসে থাকা নিরাপদ না। ধীর পায়ে পার্ক থেকে বের হয়ে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কে যেন এসে পাশে দাঁড়ায়। কি মনে হতে পাশের মানুষটির দিকে তাকাই। একজন বয়স্ক মানুষ। হাসি মুখে চেয়ে আছে।
' কি নাম তোমার?' গুরুগম্ভীর কন্ঠে জানতে চায়।
একটু অস্বস্তির মাঝে পড়ে যাই। এই রকম সময়ে কেউ নাম ধাম জানতে চাইলে বুঝতেই হবে কোন বদ মতলব আছে। কেন যে এতটা সময় পার্কে বসে থাকলাম?! নিজের উপরই রাগ হচ্ছে এখন খুব। কি ভেবেছে বুড়োটা কে জানে! বাস আসছে না কেন?
' এই মেয়ে তোমাকে বলছি। কি নাম তোমার?' ফের জানতে চাইল লোকটা।
' শিমু।' নিজের অজান্তেই বলে ফেললাম নামটা।
' তোমার প্রশ্নের উত্তর পেলে?'
' মানে?!'
' ওই যে আলোর সাথে অন্ধকার আসে নাকি বিবর্ণতার সাথে আসে?'
বিস্ময়ে পুরো স্তব্ধ হয়ে যাই। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লেও এতটা আশ্চর্য হতাম কি না জানি না। আমার জানা মতে এই প্রশ্নটা নিয়ে কারো সাথে কথা বলিনি। কারন যখন পার্কে ঢুকলাম তখনই ওটা মাথায় এলো। কিন্তু এই মানুষটি জানল কেমন করে?!
'আপনি কি বলছেন আমি বুঝতে পারছি না।' বলে আর দাঁড়ালাম না। হনহন করে হাঁটতে শুরু করলাম। একটা রিকশাও নাই। পিছন ফিরে তাকিয়ে বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল। বুড়োটা একদম আমার পিছনে পিছনে আসছে। এ কোন ঝামেলা বাঁধলো!
আবারও মনে মনে নিজেকে কষে গালাগাল করলাম।
হাঁটা বাড়িয়ে দিলাম আরও। বুড়োটা কেমন কেমন করে ঠিকই আমার পাশে চলে এলো। আবারও সেই হাসিমুখ। ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে আমার। কি চায় লোকটা? দালাল না তো?
' শিমু এত ভয় পেয়েছো কেন? আর যাচ্ছো কোথায়? এদিকে তো কিছু পাবে না খুঁজে। তুমি উল্টোদিকে চলে এসেছো।' বুড়োটার কথা শুনে সম্বিত ফিরে পাই। আসলেই তো উল্টো দিকে চলে এসেছি। মানুষটা থেমে দাঁড়িয়ে আছে। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি বাস এসেছে। একটা দৌঁড় দিলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। বাস স্ট্যাণ্ডে আসতে আসতে বাস ছেড়ে দিল। কখন যেন লোকটাও এসে দাঁড়িয়েছে পাশে।
'শিমু বললে না তো প্রশ্নের উত্তর পেলে কি না।'
উফফ!! লোকটা জ্বালাচ্ছে কেন? ভীষন রেগে যাই আমি।
' আপনি যান তো!'
' উত্তরটা আমি জানি। বলব?'
' আচ্ছা কি ব্যাপারটা কি? আপনার সমস্যা কি? আপনি আমার পিছে লেগে আছেন কেন?'
' বলব কি না বল।' লোকটা যেন শুনেও শুনতে পেল না আমার প্রশ্ন গুলো।
' আমার কোন প্রশ্ন নাই। আর দয়া করে এখান থেকে যান।'
' মিথ্যে বলছ কেন শিমু? সারা বিকেল তোমাকে এই প্রশ্নটা জ্বালিয়েছে কি না বল?'
' আপনি জানলেন কেমন করে? আপনাকে তো আমি বলিনি।'
' হুম তা বলনি । তবে তুমি যখন পার্কে ঢুকলে তখনই তো ওটা এলো তাই না। আর আমিও শুনতে পেলাম।'
' কিন্তু কিভাবে?!'
' সেটা জানা কি খুব জরুরী শিমু? উত্তরটা জানা তোমার জন্য জরুরী। তাই জানতে এলাম কিছু খুঁজে পেলে কি না।'
' আপনি যদি শুনেই থাকেন প্রশ্নটা তাহলে এটাও নিশ্চয় জানেন যে কিছু খুঁজে পাইনি।' অস্থির লাগছে এখন। রাত হয়ে যাচ্ছে অথচ এখন পর্যন্ত বাস আসছে না। এমন কি রিকশাও না। মা নিশ্চয় চিন্তা করছেন। এর মাঝে এই উটকো লোকটা পিছ ছাড়ছে না। সব মিলিয়ে ভীষন অস্থির লাগতে থাকে আমার।
বুড়োটা আবারও হাসছে। দেখে কেমন জানি বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল।
' তা ঠিক। আমি জানি তুমি উত্তরটা খুঁজে পাওনি। কিন্তু আমি তো পেয়েছি। তুমি বসে ছিলে যেখানে তার পিছনেই আমি বসে ছিলাম। তোমার সাথে সাথে আমিও ভাবছিলাম খুব। আলো আর অন্ধকার তো আসলে হাত ধরাধরি করে হাঁটে। আলো যতটা উজ্জ্বল অন্ধকার ততটাই নিকষ। আর বিবর্নতার সাথে আসলে দুঃসময়ের বন্ধুত্ব বুঝলে? তবে তোমার চারপাশে অন্ধকার এমন জাকিয়ে বসে আছে যে আলো বেচারা কাছে ঘেঁসতেই পারছে না। তাই আমি ভাবছিলাম যে তোমার সাথে একটু আলো আর অন্ধকার লেনদেন করব। আমারও হঠাৎ করেই কিছু অন্ধকারের প্রয়োজন হয়ে পড়ল। নেবে নাকি একটু আলো?'
কি বলছে কি লোকটা এইসব?! বুড়োটা নির্ঘাত পাগল। কোন কুকক্ষণে পার্কে ঢুকেছিলাম আমি! এই ফ্যাসাদের হাত থেকে বাঁচা যায় কি করে এসব ভাবতে না ভাবতেই লোকটা আবার কথা বলে ওঠে।
'ভাবছো মাথা খারাপ হলো নাকি? শোন মেয়ে তোমাকে যে আলো দেবো তা এই পৃথিবীর খুব কম মানুষকেই দিয়েছি। নরম আর উষ্ণ। আছে অবশ্য অল্পই। গত কয়েক দশকের লেনদেন শেষে আসলে এইটুকুই রয়ে গেছিল। তবে ভয় পেয়ো না। তোমায় ঠকাচ্ছি না। তোমার অন্ধকারটুকু কেনার মত আলো আমার আছে। এখন তাড়াতাড়ি বল নেবে কি না?'
লোকটা যে আসলেই উন্মাদ এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে গেলাম। কথা না বাড়িয়ে যা বলে তা মেনে নেয়াই মঙ্গলজনক মনে হলো আমার কাছে। তাই কোনমতে ঢোক গিলে ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাই।
বুড়োটা ভীষন খুশি যায়। পকেট থেকে কি যেন বের করে হাতের মাঝে গুঁজে দিল। আর ঠিক তক্ষুনি কোথা থেকে একটা বাস এসে দাঁড়ালো হুস করে। কালক্ষেপন না করে বাসে উঠে পড়ি। এইরকম নির্জন জায়গায় আর জীবনেও আসব না। অন্তত এই সময় না। খুব শিক্ষা হয়েছে আজ। বাস চলতে শুরু করায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। কি মনে হতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই। বুড়োটা কোথাও নেই। এতক্ষণে হাতের দিকে নজর গেল। এখনও মুঠি করে আছি। আস্তে আস্তে মুঠি খুলি। ফাঁকা! কিছু নেই। ফিক করে হেসে ফেলি। দূর! আমারও মাথা খারাপ হয়েছিল লোকটার কথা শুনে। কেমন জানি বিশ্বাসও হচ্ছিল যে কিছু একটা আছে বুঝি।

দু'দিন পর। সকালবেলা কাজে যাবার জন্য বাড়ী থেকে বেরোতেই দেখি পিয়ন আসছে এদিকেই। আমার হাতে একটা হলুদ খাম ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল। কেন জানি গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। কাঁপা কাঁপা হাতে খামটা খুলি। এপয়েনমেন্ট লেটার! খুব বড় একটা কোম্পানীতে মাস কয়েক আগে একটা ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। চাকরী হবার আশা একদমই ছিল না। কেমন করে এটা সম্ভব হলো বুঝতে পারছি না। অত্যন্ত ভাল বেতন অফার করছে ওরা আর খুব শীঘ্রি জয়েন করার অনুরোধ জানিয়েছে। বুকের ভেতর কেমন জানি উষ্ণতা অনুভব করি। চারপাশটা যেন হঠাৎ করেই আলোয় আলোয় ভরে গেল। ঝাপসা চোখে দেখি ভেসে যাচ্ছি এক পবিত্র নরম আলোর বন্যায়...

"তুমি সন্ধ্যারও মেঘমালা"

লিখেছেন ঃ রিমঝিম বর্ষা
অর্ক এক সপ্তাহের জন্য গ্রামের বাড়ী যাবে, এই খবরটা শোনার পর  থেকেই ঊর্মির ভেতরটা  ফাঁকা ফাঁকা লাগতে থাকে।এই শহরে ও সাতটা দিন থাকবেনা; তার মানে মন চাইলেই ওকে দেখা যাবেনা। এমনিতেও যে মন  চাইলেই  দেখা যায় তা নয় ;  তবুও  সম্ভাবনা  থাকে ।  কিন্তু ওই সাতদিন সেই সম্ভাবনাটুকুও যে নেই। আরো দুটো দিন আছে অর্ক এই শহরে। ঘড়ির কাঁটা সময় কমায়, আর ঊর্মির ভেতরটা আরো অস্থির হতে থাকে। রাগ লাগে ওর নিজের ওপরেই । আরে , অর্ক তো আসবে আবার। এত অস্থিরতা তবে কেন ?- নিজেকে নিজে বোঝায় । তবু মন কেন যেন শান্ত হয়না । অর্ককে দেখতে ইচ্ছে করে ওর খুব। মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে দেয় “তোমাকে সি-অফ করতে আসবো আমি।”

রাত আট
’টায় অর্ক’র বাস ছাড়ার কথা কলাবাগান থেকে। সে দুই ঘন্টা হাতে রেখে বাসা থেকে বের হয়। মনটা অদ্ভুত এক ভালো লাগায় ভরে আছে। ঊর্মি আসবে। মেয়েটাকে দেখলেই ভেতরটা কেমন স্নিগ্ধতায় ভরে যায়। এত মায়া মায়া মুখ। বিশেষ করে চোখদুটো; মনে হয় সবসময় কাজল দেয়া। যদিও অর্ক জানে ঊর্মি কাজল দেয়না। ঊর্মির চোখের দিকে তাকালেই অর্ক’র মনে হয় অনেক অ-নে-ক কথা ওখানে, যা ও বুঝতে পারেনা। ঊর্মিকে ওর সবসময় দেখতে ইচ্ছে করে। কতটা ভালোবাসে ঊর্মিকে সে, মেয়েটা জানবেনা কোনদিন। অর্ক’র মধ্যে প্রকাশটা মাত্রাতিরিক্ত কম। ঊর্মির ম্যাসেজ পেয়ে কি পরিমাণ খুশি সে হয়েছে ঊর্মি জানেনা। ঊর্মির উন্মাতাল ভালোবাসার ঢেউয়ে ভাসতে ভীষণ ভালো লাগে অর্ক’র। ভীষণ সেন্টিমেন্টাল মেয়ে। কথায় কথায় কষ্ট পাবে। আবার একটু আদরেই বিড়ালের মত কোল ঘেঁষে থাকবে। অদ্ভুত একটা মেয়ে। ঊর্মির কথা ভাবতে ভাবতেই ঊর্মির ফোন।

"
কেন বকছো তুমি আমাকে?" ঊর্মি একটু আহ্লাদ মিশ্রিত ঝাঁঝ নিয়ে বলে।
"
বকবো কেন?"
"ভীষন জোরে একটা কামড় লাগলো ঠোঁটে।" হাসে ঊর্মি।
"
সত্যি?" অর্ক’তো ওকেই ভাবছিলো। ভাবনার কারণে কামড়? এটা হয় নাকি? ভাবে ও মনে মনে।
"সত্যি নয়তো কি?"

অর্ক সিগনালে আটকে আছে। এখনো দেড় ঘন্টা বাকী আট
’টা বাজতে। কলাবাগান পৌঁছাতে বড়জোর আর এক ঘন্টা লাগবে। ঊর্মির সাথে কথা বলতে শুরু করলে সময় গড়িয়ে যায় কি করে বোঝেনা অর্ক। এমনিতে এতক্ষণ ফোনে কারো সাথে কথা বলা অসম্ভব। অথচ ঊর্মির সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায়। ভালো লাগা বাড়তেই থাকে। কথার ডালি ফুরোয়না।

"
আচ্ছা শোন...আমি না আসবোনা।" ঊর্মি বলে।
"
মানে?"....ধাক্কার মত লাগে অর্ক’র। "তুমি কি জানোনা আমি অপেক্ষা করছি?!" অভিমান নিয়ে মনে মনে বলে অর্ক।
"আসলে আমার মনে হচ্ছে তোমাকে সি-অফ করতে আসলে আমার বেশি খারাপ লাগবে। খালি খালি লাগবে।"
"
হুম"। ছোট্ট করে বলে অর্ক। "আর তোমাকে না দেখলে যে আমার ভেতরটা খালি হয়ে যাবে। আমার বুকের নদীতে খরা পড়বে। ঢেউ হবেনা সে নদীতে আগামী সাত-টা দিন"...অর্ক মনে মনে বলে।

ঊর্মি চুপিচুপি হাসে। বোঝে ও
, অর্ক চাচ্ছে ও যাক। কিন্তু মুখ ফুটে একবারও বলবেনা ছেলেটা "তুমি আসো, তোমাকে আসতেই হবে।" আশ্চর্য! ভালোবাসতে পারবে কিন্তু বলতে পারবেনা। শুনতে চায় ঊর্মি অর্ক’র এমন পাগল করা ডাক।

হঠাৎ ঘড়ি দেখে ঊর্মি উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলে "ফোন রাখো। আমি বের হবো।"

"
কোথায় যাবে?"
"দেখি.....মন কোথায় নিয়ে যায়" বলে খিলখিল করে হেসে ওঠে।

ওর এই হাসিতেই অর্ক বুঝে যায় ঊর্মি আসছে। মনটা আবার কাশফুলের স্নিগ্ধতায়
ভরে ওঠে। কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনে অর্ক "আমার সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম।" শ্রীকান্তের কণ্ঠে এই গান শুনলে মনে হয় গানটা শুধুই ঊর্মির জন্যে।

অর্ক কলাবাগান পৌঁছে যায় সোয়া সাতটায়। ফোন দেয় ঊর্মিকে। জ্যামে পড়েছে। অর্ক
পৌঁছে গেছে শুনে ঊর্মি অস্থির হয়। ফোনে কথা বলতে গিয়েই দেরী হয়ে গেল। ঊর্মি নিজেও বেশিক্ষণ ফোনে কথা বলতে পারেনা। কিন্তু অর্ক’র সাথে কোন সমস্যাই হয়না। ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলার পরেও মনে হয় অনেক কথা বাকী রয়ে গেলো। রিক্সা ছেড়ে দিয়ে প্রায় দৌঁড়াতে শুরু করে ঊর্মি। ১৫ মিনিটের মাথায় পৌঁছে যায়। অর্ক রাস্তার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। ফুটপাত দিয়ে হেঁটে গিয়ে পেছন থেকে "হাহ্" শব্দ করে হালকা ধাক্কা দেয় অর্ককে। অর্ক একটুও চমকায়না দেখে গাল ফুলানোর ভঙ্গী করে ঊর্মি।

"
চমকালেনা কেন? তুমি তো দেখোনি আমাকে।"
"
কে বলে দেখিনি? তুমি আমার আশে-পাশে থাকলেই আমি টের পাই।" দুষ্টু হাসি অর্ক’র ঠোঁটে।
"কচু"। "তোমার গাড়ী এক ঘন্টা লেট করবে তো?"
"
ওমা! সেকি! লেট কেন করবে?"
"বাহ্! আধ ঘন্টা তোমার সাথে থেকে পোষাবে?"
"
হাহাহাহাহাহাহাহা"। শব্দ করে হাসে অর্ক। খুব ভালো লাগছে ওর। মেয়েটা ওকে পাগলের মত ভালোবাসে। বোঝে অর্ক। ও নিজেও কি ভালোবাসেনা!!! ঊর্মির মাঝেই যে ওর বসতি!! অর্ক’র হাসি ঝনঝন করে বাজতে থাকে ঊর্মির বুকের মধ্যে। মন খারাপ হতে থাকে।

যথাসময়ে গাড়ী চলে আসে। অর্ক গাড়ীতে উঠে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। ঊর্মি
চুপচাপ দাঁড়িয়ে। খুব একটা তাকাতে পারেনা অর্ক’র দিকে। ওর চোখ উপচে পড়ছে অশ্রুজলে। সেটা দেখাতে চায়না অর্ক’কে। “আবার কবে দেখবো তোমাকে সোনা?” মনে মনে বলে।

"
কিছু কি বাকী রয়ে গেল বলা!" ঊর্মির মধ্যে অস্থিরতাটা আবার ফিরে আসে। একদম শেষ সময়ে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে নেয় অর্ককে। যেন মুখটা গেঁথে নেয় হৃদয়ে।

আনমনে হাঁটতে থাকে ঊর্মি আর ম্যাসেজ লিখতে থাকে। ম্যাসেজ লিখতে লিখতেই
রাস্তা পার হতে থাকে। "Have a safe journey." কথাটা লিখে Send button প্রেস করে বাঁ-দিকে চোখ পড়তে না পড়তেই হেডলাইট এর চোখ ধাঁধানো আলোয় ওর চোখদুটো ঝলসে যায়; পরমুহূর্তেই সবকিছু অন্ধকার।

ঊর্মি
’র ম্যাসেজ পেয়ে অর্ক’র মনে হয় আরো অনেক কিছুই লিখতে চেয়েছিলো মেয়েটা। অর্ক ম্যাসেজ লেখে ঊর্মিকে "তুমি সন্ধ্যারও মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা; আমি আপন মনেরও মাধুরী মিশায়ে তোমারে করেছি রচনা"। ম্যাসেজটা লিখে ও নিজেই একটু লজ্জা পায়। এভাবে ঊর্মিকে ও কখনো বলেনা। আজ কেন বলতে ইচ্ছে করছে? আর কিছু না ভেবে ম্যাসেজটা পাঠিয়ে দেয়। অনেক্ষণ কোন রিপ্লাই না পেয়ে অর্ক ভাবে হয়তো বাসায় পৌঁছে গেছে। ফ্রেশ হয়ে তারপর রিপ্লাই করবে। অপেক্ষা করতে থাকে অর্ক। পরপর আরো কয়েকটা এসএমএস করে, যা ওর স্বভাব-বিরুদ্ধ। একটার রিপ্লাই না পেলে অর্ক কখনোই সেকেন্ড এসএমএস করবেনা। কিন্তু আজ কেমন করছে মনটা। অর্ক বোঝেনা ওর ভেতরের অস্থিরতার কারণ। বিষণ্ন লাগতে শুরু করে। ইচ্ছে করে ঢাকা ফিরে যেতে.....ইচ্ছে করে ঊর্মি’র কাছে যেতে। বাস শহর ছেড়েছে। আজ আকাশে অজস্র তারা। হয়তো প্রতিদিনই থাকে। শহুরে আলোর ভিড়ে এই স্নিগ্ধ আলো নজরে আসেনা। "তুমি সন্ধ্যারও মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা; আমি আপন মনেরও মাধুরী মিশায়ে তোমারে করেছি রচনা; তুমি আমারি তুমি আমারি...মম শূন্য গগন বিহারী"........শ্রীকান্তের কণ্ঠ বাজতে থাকে অর্ক’র হেডফোনে।